অনাদায়ী ঋণ আদায়/সমন্বয়ে বিশেষ এক্সিট সংক্রান্ত নীতিমালা।
দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ঋণগ্রহীতাগণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ঋণগ্রহীতাগণের ব্যবসা, শিল্প, উদ্যোগ বা
প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ হতে ফাইন্যান্স
কোম্পানিসমূহেরও ঋণ আদায় কার্যক্রম বাধাগস্ত হয়। এক্ষেত্রে ঋণ সমন্বয়ে সদিচ্ছুক গ্রাহকগণের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ঋণ সমন্বয়ের
সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় এককালীন এক্সিটের মাধ্যমে ঋণ আদায়/সমন্বয় এর সুবিধা প্রদানের আবশ্যকতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
২। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকগণের ঋণ পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ঋণ আদায়ের মাধ্যমে ফাইন্যান্স কোম্পানির শ্রেণিকৃত
ঋণ হ্রাস ও তারল্য পরিস্থিতি উন্নয়নে ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণ সমূহকে পরিচালনা পর্ষদের
অনুমোদন সাপেক্ষে ফাইন্যান্স কোম্পানি-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এক্সিট প্রদান করা যাবে। এ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত
নির্দেশনাবলী অনুসরণীয় হবে:
ক) বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় ঋণগ্রহীতাকে সমুদয় দায় এককালীন পরিশোধ করতে হবে;
খ) এ সুবিধার আওতায় মূল ঋণ (আসল) মওকুফ করা যাবে না। তবে, প্রয়োজনে যাচাই বাছাইপূর্বক ঋণের সুদ মওকুফ করা
যাবে। অপরিহার্য ক্ষেত্রে তহবিল ব্যয় আদায়ের শর্ত শিথিল এবং আয় খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ সুবিধা প্রদান করার
প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে এর যৌক্তিকতা নিশ্চিতকরণে ফাইন্যান্স কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে নিরীক্ষা
করতঃ হেড অব ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (এইচআইসিসি) এর মতামত গ্রহণ করতে হবে;
গ) ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে প্রবাহিতকরণ (Fund Diversion) এবং ঋণদান প্রক্রিয়ায় জাল-জালিয়াতি বা অন্য কোন ধরণের
প্রতারণা/অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকলে উক্ত ঋণ এক্সিট সুবিধার জন্য বিবেচনা করা যাবে না;
ঘ) মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণসমূহ, যা ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সময়ে পুনঃতফসিল
করা হয়েছে, উক্ত ঋণসমূহও এ সার্কুলারের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা প্রাপ্য হবে; এবং
ঙ) বিশেষ এক্সিট প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি খাতের স্বল্প মেয়াদী কৃষি ঋণ ও সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও স্মল
ঋণসমূহকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।
৩। এ সার্কুলারে বর্ণিত বিশেষ এক্সিটের বিষয়ে ঋণগ্রহীতাদের অবহিতকরণের নিমিত্ত পত্র প্রেরণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে
হবে।
৪। এ সার্কুলারের নির্দেশনাসমূহ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
৫। ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ এর ৪১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।