১. ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
আপিলকারীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩২৩ ধারায় (স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান) মামলা দায়ের করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানির পর আসামিদের প্রত্যেককে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপিল করা হলে অতিরিক্ত দায়রা জজ আপিলটি খারিজ করে নিম্ন আদালতের দণ্ড বহাল রাখেন।
তবে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪২৬ ধারা অনুযায়ী, নিম্ন আপিল আদালত আসামিদের হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন দায়ের করার সুবিধার্থে ২৯ জানুয়ারি ১৯৮৯ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। আপিলকারীরা উক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন দাখিল করেন। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চ তাদের জামিন বর্ধিত না করে, আসামিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করার এবং পৃথকভাবে জামিনের আবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন।
২. আদালতের সামনে উত্থাপিত আইনি প্রশ্ন
নিম্ন আপিল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থায়, হাইকোর্ট বিভাগ আসামিদের জামিন প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় আত্মসমর্পণ ও পৃথক জামিন আবেদন করার নির্দেশ দিয়ে আইনসম্মত কাজ করেছেন কিনা?
৩. আদালতের সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, হাইকোর্ট বিভাগের একক বিচারক এক্ষেত্রে সঠিকভাবে তাঁর বিচারিক এখতিয়ার ও ক্ষমতা প্রয়োগ করেননি। আদালতের মূল পর্যবেক্ষণসমূহ নিম্নরূপ:
- জামিনের ধারাবাহিকতা: নিম্ন আপিল আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা মোতাবেক বৈধভাবেই আপিলকারীদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। যেহেতু আপিলকারীরা জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিভিশন আবেদন দাখিল করেছিলেন, সেহেতু রিভিশন আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করার সাথে সাথেই তাদের জামিনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা উচিত ছিল।
- পৃথক আবেদনের প্রয়োজনীয়তা: রিভিশন আবেদনের ভেতরেই সাধারণত জামিনের প্রার্থনা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর জন্য আলাদাভাবে জামিনের আবেদন দাখিল করার কোনো বাধ্যতামূলক আইনি প্রথা বা নিয়ম নেই। সুতরাং, হাইকোর্ট বিভাগের পৃথক জামিন আবেদন করার নির্দেশ যৌক্তিক ছিল না।
- অপরাধের প্রকৃতি ও সাজার মেয়াদ: মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারার অধীনে ছিল, যা একটি সম্পূর্ণরূপে জামিনযোগ্য (Bailable) অপরাধ। এছাড়া আসামিদের প্রদত্ত সাজাও ছিল মাত্র ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। এই পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে জামিনে থাকা আসামিদের পুনরায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আপিল বিভাগ রায় দেন যে, হাইকোর্ট বিভাগের জামিন প্রত্যাখ্যান এবং আত্মসমর্পণের নির্দেশ আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন ও আইনসম্মত হয়নি। অতএব, রিভিশন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপিলকারীরা নিম্ন আপিল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত জামিনেই বহাল থাকবেন।