চিন বাংলাদেশের যৌথ ঘোষণায় তো বাংলাদেশ ডিজাস্টার করে দিছে। বাংলাদেশে চাইনিজ এমব্যাসি তাদের ফেইসবুক পেইজে যৌথ ঘোষণা পাবলিশ করছে। আজকে খুটায়ে খুটায়ে পড়লাম। আপনারাও পড়তে পারেন। একটা ডিজাস্টারের এক্সাম্পল দেই। বারো নাম্বার পয়েন্টে বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল রক্ষা, "ফ্যাসিবাদী ও সামরিকবাদী পুনরুত্থানের" বিরোধিতা। এই শব্দগুলো নিরীহ শোনাইলেও, এইগুলা নিরীহ শব্দ না। এইগুলা আরেক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হাইলি চার্জড পলিটিক্যাল বয়ান।
চলেন খুলে বলি, কারণ এটা না বুঝলে আপনি বুঝবেন না বাংলাদেশ এখানে কী সই করল। "সামরিকবাদী পুনরুত্থানের বিরোধিতা", এই শব্দটা চীনের কূটনীতিতে একটা কোড। কাকে নির্দেশ করে? জাপানকে। চীনের বয়ানে জাপান হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপরাধী, যে এখনো ঠিকমতো অনুতপ্ত হয়নি, আর যে আবার সামরিকীকরণ করছে।
এই জাপান-বিরোধী ভাষায় বাংলাদেশ সই করল কেন? জাপানের সাথে বাংলাদেশের কোনো বিরোধ আছে? উল্টোটা। জাপান পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন-অংশীদার স্বাধীনতার পর থেকে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিছে। এই শব্দগুলার মানে জানেনা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়? এই ক্লজটা থেকে তো জাপানের অংশটা বাদ দিতে হতো। জাপানরে চটায়ে আমাদের কোন লাভাছে? নাই। আমেরিকার সাথে ট্যারিফ নেগোসিয়েশনে নন মার্কেট এন্টিটি মানে চায়নার সাথে কৌশলগত চুক্তি করতে পারবে না এই দাসখত লিখে দিয়ে আসছে। ইরানের উপরে আমেরিকার আক্রমণের পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মারা গেলেও ইরানকে দায়ী করে পরদিন বিবৃতি দিছে আবার চায়নায় গিয়া জাপানরে চটাইলো। ইংরেজিতে যা লেখা দেখে তাই মনে করে ঠিকই লিখিছে।
এরা বড় হবে কবে? প্যাথেটিক।