সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের রায় সম্পর্কে সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অনেক সময় কল্পনাও করে না। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের প্রদত্ত Suo Motu Rule No. 4 of 2018-এর রায় এ ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। চলন্ত বাসের রেষারেষির ফলে তরুণ মেধাবী ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় প্রদত্ত এই ঐতিহাসিক রায়টি নিয়ে আজ আলোচনা করব, যা আইন শিক্ষার্থী, আইনজীবী এবং সচেতন নাগরিক সকলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক মানুষের গন্তব্যে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম; কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনেক ক্ষেত্রে তা যেন এক একটি জীবন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভ, পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং অদক্ষ বা অনুপযুক্ত চালকদের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ এবং ভেঙে যাচ্ছে বহু পরিবারের স্বপ্ন। তেমনি এক বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পটুয়াখালীর এতিম তরুণ রাজীব হোসেন উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় সরকারি তিতুমীর কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। মা-বাবার মৃত্যুর পর তিনি ছিলেন তাঁর দুই ছোট ভাইয়ের একমাত্র অভিভাবক ও আশ্রয়স্থল। কিন্তু ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকার ব্যস্ত সড়কে দুটি বাসের বেপরোয়া রেষারেষির শিকার হয়ে তাঁর ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাজীবের এই মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অবসানই নয়; বরং তাঁর দুই নাবালক ভাইয়ের ভবিষ্যতের একমাত্র অবলম্বনও নিভে যাওয়ার নামান্তর। ঘটনাটি দেশব্যাপী গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং মহামান্য আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
এই রায় বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা আইনশাস্ত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। আদালত শুধু ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশই দেননি, বরং সড়ক ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত সংস্কারের জন্য একগুচ্ছ নীতিগত নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ফলে রাজীব হোসেন মামলা (Suo Motu Rule No. 4 of 2018) কেবল একটি ক্ষতিপূরণের মামলা নয়; এটি নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।