সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার, ডিবির রিমান্ড আবেদন
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পল্টন থানার একটি মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাসুদের নামে ৮টিরও বেশি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুদকের মামলাও আছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে আদালতে তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
এক-এগারোতে ভূমিকা
২০০৭ সালের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মাসুদ উদ্দিন ছিলেন নবম ডিভিশনের জিওসি। এক-এগারোর রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের পর তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির নির্দেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি দেশের অনেক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা, বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়। সে সময় ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে দুই প্রধান দলকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা হয়েছিল।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অধ্যায়
খালেদা জিয়ার আত্মীয় হিসেবে তিনি বিএনপি সরকারের সময়ে পদোন্নতি পান। তবে ২০০৮ সালে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে।
২০১৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি ও বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
সাম্প্রতিক অভিযোগ
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে হাসিনা-পতন আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপালে অস্ত্রধারীদের গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। প্রায় দুই বছর পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।