মদিনার মতো পবিত্র ভূমি থেকে পড়াশোনা করে এসে একজন আলেম কেন ফিলিস্তিনের হামাসকে 'সন্ত্রাসী' বলে গালি দেয়? কেন তারা ইসরাইলের চেয়ে ইরানকে বড় শত্রু মনে করে? উত্তরটা কোনো আধ্যাত্মিক কিতাবে নেই, বরং এর উত্তর লুকিয়ে আছে মদিনা ইসলামি ইউনিভার্সিটির সেই কারিকুলামে, যা কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
একে বলা হয় 'মাদখালিজম' (রবী ইবনে হাদী আল-মাদখালির নামানুসারে)। এদের মূল কাজই হলো ‘ওয়ালিউল আমর’ বা শাসক যতই জালেম হোক, তার আনুগত্য করাকে 'ফরজ' বানিয়ে দেওয়া।
সহজ করে বলি, সৌদি রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে এমন একদল আলেম দরকার যারা জনগণকে বলবে, "রাজার বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই আল্লাহর বিরুদ্ধে কথা বলা।" আর এই উদ্দেশ্যেই বিশ্বের আনাচে-কানাচে থেকে গরিব ও মেধাবী ছেলেদের মোটা অঙ্কের স্কলারশিপ দিয়ে মদিনায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের মাথায় গেঁথে দেওয়া হয় এক অদ্ভুত ইসলাম।
রেফারেন্স হিসেবে আপনি ডঃ মেইন আল-কুদ্বাহ বা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নিবন্ধ দেখতে পারেন, যেখানে উল্লেখ আছে কীভাবে মদিনা ভার্সিটির সিলেবাসকে ব্যবহার করে ‘সালাফিয়্যা আল-জামি’ বা সরকারের আজ্ঞাবহ একটি গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। এদের কাছে ইসরাইলের ট্যাংক কোনো সমস্যা নয়, কিন্তু ইরান বা হামাসের প্রতিরোধ তাদের চোখে 'বিদাআত' আর 'ফিতনা'।
মদিনা ভার্সিটির এই আলেমদের কাছে সবচেয়ে বড় শত্রু হলো 'ইরান'। কেন? কারণ ইরান রাজতন্ত্র মানে না। অথচ মজার ব্যাপার দেখেন, এরা যখন ইরানকে 'কাফের' বলে ফতোয়া দেয়, তখন ইসরাইলের সাথে সৌদি রাজতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা বা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নিয়ে তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। তাদের শেখানো হয় যে শাসকের বিরোধিতা হারাম।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই ভার্সিটির গ্র্যাজুয়েটদের ব্যবহার করা হয় পশ্চিমাদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে। ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড তার বইয়ে পরিষ্কার দেখিয়েছেন কীভাবে সৌদি আরব তার ধর্মীয় প্রভাবকে পশ্চিমা স্বার্থে ব্যবহার করে। যখনই আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তখনই এই মাদখালি আলেমরা কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণের ক্ষোভকে থামিয়ে দেয়।
এরা পেট্টোডলারের বিনিময়ে ঈমান বিক্রি করা একদল বেতনভুক্ত কর্মচারী। এদের কাজই হলো প্রতিরোধের দুর্গ ইরানকে কাফের বানিয়ে মুসলিমদের মনে বিভেদ ছড়ানো, যেন আমরা কখনোই এক হয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারি।
ঘুমন্ত মস্তিষ্ককে একবার প্রশ্ন করুন—যে ইসলাম জালেমের পা চাটতে শেখায়, তা কি মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইসলাম নাকি রাজদরবারে তৈরি হওয়া কোনো অনুগত ধর্ম? রাজতন্ত্রের তসবিহ না টিপে একবার ইতিহাসের তলোয়ারটা হাতে নিয়ে দেখুন। মনে রাখবেন, যারা আজ হামাসকে সন্ত্রাসী বলছে আর ইরানকে কাফের বানাচ্ছে, তারাই মূলত ইসরাইলের আসল পাহারাদার। এই মদিনা ভার্সিটির তথাকথিত আলেমদের সার্টিফিকেট দিয়ে জান্নাত মাপা যাবে না, জান্নাত মাপা হবে কুরআন ও সুন্নাহ দিয়ে ■☆■