মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা কতটা বাস্তব?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এ সংঘাত শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়; ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, আজারবাইজান, অধিকৃত পশ্চিম তীর, সাইপ্রাস, সিরিয়া, কাতার ও লেবাননও প্রভাবিত হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই আঞ্চলিক সংঘাত কি বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে?
বিশ্বযুদ্ধের সংজ্ঞা
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ইতিহাসের এমেরিটাস অধ্যাপক মার্গারেট ম্যাকমিলান বলেন, অতীতের বড় যুদ্ধগুলো অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি ও দুর্ঘটনা থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দ হত্যাকাণ্ডের পর। দ্রুতই জোটবদ্ধ দেশগুলো এতে জড়িয়ে পড়ে এবং তা বৈশ্বিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়।
লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক জো মাইওলো বিশ্বযুদ্ধকে ব্যাখ্যা করেন—“এটি এমন সর্বাত্মক যুদ্ধ যেখানে বিশ্বের বড় শক্তিগুলো সরাসরি অংশ নেয়।”
বর্তমান পরিস্থিতি
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত এখনো আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় বা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়, তখন বড় শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন। তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীন বা রাশিয়া সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নামবে না।
ঝুঁকি ও সম্ভাবনা
- ছোট ভুল বোঝাবুঝি বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
- নেতাদের অহংকার ও ভুল স্বীকার না করার প্রবণতা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে।
- অন্য অঞ্চলে সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে—যেমন চীন তাইওয়ান নিয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে বা রাশিয়া ইউক্রেনে তৎপরতা বাড়াতে পারে।
সংঘাত কমানোর পথ
ম্যাকমিলান ও মাইওলো উভয়েই মনে করেন, উত্তেজনা কমাতে কূটনীতি অপরিহার্য। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা এবং ইরানের অবস্থান নিয়ে বৈশ্বিক সমঝোতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সম্ভব নয়।