যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত রায় দিয়েছেন যে, ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা ছিল। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ট্রাম্প শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিলেন, যা এখন বন্ধ হয়ে গেল।
সুপ্রিম কোর্টের ছয়জন বিচারপতি রায়ে ট্রাম্পের নীতির বিপক্ষে মত দিয়েছেন, তিনজন সমর্থন করেছেন। রায়ে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA) প্রেসিডেন্টকে এই ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। ট্রাম্প এই আইন ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্প “আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মুক্তি হবে বলে দাবি করেছিলেন।

যদিও সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে, তবে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে, তার ভাগ্য নিয়ে রায়ে কিছু বলা হয়নি।
ট্রাম্প শুল্ককে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ ও আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে, গত জানুয়ারিতে পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ‘পাল্টা শুল্ক’ এবং মেক্সিকো, কানাডা, চীনের ওপর আলাদা শুল্ক।
রায়ে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি তিনজন রক্ষণশীল কনজারভেটিভ বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন। এর ফলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকল, যা ট্রাম্পের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। বিপক্ষে ছিলেন রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানাফ, ক্ল্যারেন্স থমাস, ও স্যামুয়েল আলিটো।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই–পারথেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বলেন, রায়ের ফলে গড় শুল্ক হার ১৬.৮% থেকে ৯.৫% পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এটি সম্ভবত সাময়িক হবে, কারণ মার্কিন সরকার নতুনভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপের অন্য পথ খুঁজতে পারে।
বিশ্ববাণিজ্যে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। শুল্ক নীতিবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের এরিকা ইয়র্ক বলেন, এই রায় প্রেসিডেন্টের অপসীম শুল্ক আরোপের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করবে, তবে অন্যান্য আইনি পথে শুল্ক আরোপের সুযোগ