শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, “একুশের প্রথম প্রহরে যেভাবে কিছু নেতা–কর্মী উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন, তা অন্য আসনেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। পুষ্পস্তবক অর্পণে বাধার বিষয়টি বিএনপি উপেক্ষা করলে তাদের জন্য ভালো হবে না—এটি আমার স্পষ্ট বার্তা।”
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে সরাইল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপির কিছু নেতা–কর্মীর বাধার মুখে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন।
বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা সবকিছুতেই রাজনীতি করি। যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা নিজেদের মতো করে ইতিহাস লেখে। ফলে ইতিহাসে কখনো আমরা দেবতা, কখনো ইবলিশ—কিন্তু সাধারণ মানুষের জায়গা কোথাও থাকে না।”
পাঠ্যবইয়ে ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার পরিবর্তন হয়েছে বারবার, কিন্তু ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস এখনো যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। এটি জাতির জন্য দুঃখজনক।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী, আশুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম, সরকারি হাজি আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান প্রমুখ।